 |
| Plaster Work |
যারা প্রথম পর্ব পড়েন নাই তারা পড়ে নিন
১ম পর্ব:
https://www.civilblogbd.com/2019/03/topics-plaster-work-part-1.html?m=1
Topics: Plaster Work [Part-2]
আলোচ্য বিষয়: প্লাস্টারের সময় করনীয়, প্লাস্টার কাজের চেকিং এবং ত্রুটিসমূহ।
===============================================
🔵
প্লাস্টারের সময় করণীয়:-
✔ Mortar Laying/ মসলা ছাপানো:-
প্রথমে দেওয়াল বা ছাদের চার কর্নার ও মাঝে ৫টি #পায়া করে নিন [Wall হলে শল করে নিতে হবে], এরপর কর্নারের পায়াগুলোর সাথে Horizontal, Vertical & Cross করে সূতা ধরে দেখে নিন সারফেসের সব জায়গায় প্লাস্টারের পুরুত্ব ঠিক আছে কিনা? যদি মসলার পুরুত্ব ঠিক থাকে তাহলে পুরো সারফেসে প্লাস্টার ছেপে পায়াগুলোর রেসপেক্টে কাজ শেষ করতে হবে। Normally প্লাস্টারের পুরুত্ব ১/২” থেকে ৩/৪” হয়ে থাকে।
৩/৪" অধিক পুরুত্বের ক্ষেত্রে যা করতে হবে;
☞ ১" উপরে হলে তা দুই ধাপে করতে হবে, প্রথমে ১” রাফ প্লাস্টার করে রাখতে হবে এবং পরের ধাপে ফিনিশিং দিতে হবে।
☞ ১.৫" অধিক পুরুত্বের প্লাস্টারের ক্ষেত্রে Wire Mesh [G.I তারের নেট] ব্যবহার করতে হবে। সে ক্ষেত্রে প্রথম ধাপের রাফ প্লাস্টার শেষে Wire mesh লাগিয়ে নিতে হবে, পরের ধাপে প্লাস্টার শেষ করতে হবে, অন্যথায় প্লাস্টার #ফেটে যেতে পারে।
১/২" কম পুরুত্বের ক্ষেত্রে যা করতে হবে;
☞ মনে রাখবেন আপনাকে মিনিমাম ১/২” পুরুত্বের প্লাস্টার করতে হবেই, এর থেকে কম থাকলে প্রয়োজনে গাথুনী ছেচে নিবেন। না হলে প্লাস্টারের পর ইটের গ্যাপ দৃশ্যমান হয়ে যাবে, আবার প্লাস্টারও #পড়েযেতে পারে।
বি.দ্র: প্লাস্টার ছাপানোর পূর্বে RCC সারফেসের উপর ঝাড়ু দিয়ে সিমেন্ট #গ্রাউটিং দিয়ে নিতে হবে। ভূরা নট এক্সেপ্টেড, সাথে #দোরসা[ হালকা আদ্র মর্টার] ব্যবহার ও নিষেধ করতে হবে।
প্লাস্টারের কাজে সব সময় নতুন ফোম এবং ফুলের ঝাড়ু ব্যবহার করা উচিত, না হলে প্লাস্টারের গাত্রে দাগ থেকে যায়।
✔ মসলা [Mortar] লেইং:-
মসলা ছাপানোর সাথে সাথেই প্লাস্টার করতে যাবেন না, একে হালকা শুকানোর জন্য সময় দিন [বিশেষ করে ছাদে]। না হলে দেখা যাবে বার বার মসলা পড়ে যাবার ধরুন মিস্ত্রি বাবাজি আপনার অজান্তেই তার কাম সেরে ফেলেছে [ভুরা দিয়ে] 😃।
✔ মসলা নরম হলে:-
আলাদা ভাবে রেশিও অনুপাতে বালি সিমেন্ট মিক্স করে তা নরম মসলার সাথে মেশাতে হবে, কখনোই আলাদা আলাদাভাবে বালি কিংবা সিমেন্ট দিতে দিবেন না।
✔
মসলা ব্যবহারের সময়সীমা:-
চেষ্টা করবেন মসলা ১ ঘন্টার মধ্যে শেষ করে ফেলতে, বাস্তবিক পক্ষে আসলে তা সম্ভব হবেনা, এতে করে প্রচুর অপচয় হবে। যাইহোক এক ঘন্টার বেশি হলে মর্টারের সাথে হালকা #সিমেন্ট মিশিয়ে ভালভাবে মিক্সিং করে ব্যবহার করবেন।
✔
Curing:-
কনস্ট্রাশন কাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন অংশ হচ্ছে কিউরিং, প্রপার কিউরিং এর অভাবে অনেক সময় স্ট্রাকচার তার পূর্ন শক্তি অর্জনে ব্যর্থ হয়। সেই জন্য প্লাস্টার শেষে ৭-১৪ দিন পর্যন্ত কিউরিং করতে হবে [দিনে কমপক্ষে ২ বার]। কংক্রিটের মত প্লাস্টারের মসলা তৈরিসহ কিউরিং এর কাজেও #বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করা উচিত।
………………………………………………………………………
🔵 যা করা যাবেনা:-
✔ ভুরার ব্যবহার [Dry Mortar]:-
যদিও এই ব্যাপারে #রেজা ভাই তার পোষ্টে বিশদ আলোচনা করেছিলেন, তাই আমি গভীরে গেলাম না। মসলা নরম হলে, কিংবা দেওয়াল বেশি আদ্র থাকলে [তাছাড়া কন্ট্রাকটরের টার্গেট তো রয়েছেই] মিস্ত্রি বাবাজি তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করার জন্য অনেক সময় ভূরা [ড্রাই মর্টার] ব্যবহার চাইবেন, যা কখনোই ব্যবহার করতে দিবেন না। মনে রাখবেন ভুরা হলো প্লাস্টারের জন্য #ক্যানসার স্বরুপ, এর ফলে পরবর্তীতে যা হতে পারে;
☞ প্লাস্টার খসে পড়তে পারে।
☞ প্লাস্টারে ফাটল ধরতে পারে।
☞ রং করা জন্য ঘষলে কিংবা রং করার পরেও তা ঝুরঝুরে পড়ে যেতে পারে।
✔
প্লাস্টারের জয়েন্ট:-
চেষ্টা করবেন প্লাস্টারে জয়েন্ট না ফেলতে, কারণ জয়েন্টের উপরের প্লাস্টারের সাথে নিচের প্লাস্টার কখনোই মিলতে চায়না, সেখানে একটা দাগ কিংবা #ঢেউ থেকেই যায়। এ জন্য পুরো দেওয়ালের প্লাস্টার সব সময়ে এক দিনেই শেষ করে ফেলতে হবে [Full Height/ Full Length]।
………………………………………………………………………
🔵
প্লাস্টারের কাজে চেকিং সমূহ:-
☞ Plum bob/ ওলন দিয়ে দেখবেন পৃষ্ঠদেশ উলম্বভাবে স্ট্রেট বা #শলে আছে কিনা?
☞ Try Square বা মাটামের সাহায্যে দেখবেন কলাম বা বিমের কর্নার গুলো ৯০ #ডিগ্রিতে আছে কিনা?
☞ লেভেল পাইপ দিয়ে দেখতে হবে বিমের বটম বা টপ দুই এন্ডে একই #লেভেলে রয়েছে কিনা?
☞ পৃষ্টদেশ সমতল আছে কিনা তা বুঝার জন্য ৭ ফিটের একটি গজ [Thai Aluminum Section] নিয়ে বৃত্তাকারে ঘুরান, যদি সারফেসে ঢেউ কিংবা অসমতল থাকে তবে নিজেই দেখতে পারবেন, ঢেউ থাকলে সারফেসের সাথে গজ চেপে ধরলে তা কোথাও মিলে যাবে আবার কোথাও ফাঁকা থাকবে।
☞ নিখুঁত প্লাস্টারিং চাইলে #টর্চ লাইট নিয়ে চেক করতে পারেন, ব্যাটা মিস্ত্রির সব কিছু বের হয়ে যাবে😃। ১০০w এর একটি বাল্ব নিয়ে সারফেসের সামনে ধরুন, দূর থেকেই দেখতে পাবেন সারফেসে ঢেউ বা বক্রতা আছে কিনা?
………………………………………………………………………
🔵
প্লাস্টারের ত্রুটিসমূহ:-
✔
Blistering:-
প্লাস্টারকৃত সমতল পৃষ্টের মধ্যে ফোস্কা সৃষ্টি হওয়াকে ব্লিস্টারিং বলে। এটা হয় মূলত সদ্য প্লাস্টারকৃত সারফেস পানির সংস্পর্শ পেলে।
✔
Crazing:-
প্লাস্টারের সমতল পৃষ্ঠে এলোমেলো যে সরু ফাটলগুলো দেখা যায় তাকে ক্রেজিং বলে, একে অন্য ভাষায় চুল ফাটল ও বলে।
✔
Cracking:-
প্লাস্টার শেষে গাত্রে যে গভীর ফাটল দেখা দেয় তাকে ক্রাকিং বলে। ত্রুটিপূর্ন প্লাস্টারের কারণে যেমন ক্রাকিং হতে পারে, তেমনি ব্রিক ওয়ালের ফাটলের কারণেও ক্রাকিং হতে পারে। যাই হোক ফাটল বিভিন্ন কারণেই হতে পারে, তবে নিন্মোক্ত কারণগুলো এর জন্য বেশি দায়ী;
☞ সিমেন্ট ও বালির মিক্সিং রেশিও কিংবা মিক্সিং প্র্রসিডিউর সঠিক না হলে।
☞ অগ্নি কিংবা অন্যান্য কারণে অত্যাধিক তাপের প্রভাবে।
☞ প্লাস্টারের প্রসারন ও সংকোচনের ফলে।
☞ প্লাস্টারের পুরুত্ব বেশী হলে।
☞ পানি সিমেন্ট অনুপাত সঠিক না হলে।
☞ প্রয়োজনের অতিরিক্ত সিমেন্ট ব্যবহার করা হলে।
☞ সবচেয়ে বড় কারণ হলো ঠিকমত কিউরিং না করলে।
☞ মিস্ত্রীর ত্রুটিপূর্ন কাজ তো আছেই, সেই সাথে আছে আমাদের প্রপার সুপারভিশনের অভাব।
Md Al Amin (আল-আমিন)
Senior Engineer Civil. at BSRM
Studied B.Sc in Civil Engineerig at University of Information Technology & Sciences - UITS
Comments
Post a Comment